Pages

Monday, November 7, 2016

ট্রাম্পের পরাজয়ের জন্য প্রার্থনা!

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসী পরিবারের সদস্যদের আয়ে পরিচালিত মেক্সিকোর পরিবারগুলো আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরাজয় কামনা করে প্রার্থনা করছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে মেক্সিকোর গ্রামীণ অর্থনীতি যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের পাঠানো অর্থের ওপর অনেকাংশে নির্ভরশীল।
এমনই একজন মেক্সিকোর ছোট্ট পাহাড়ি শহর মোকাকসেকের বাসিন্দা ৬৫ বছর বয়সী আলিসিয়া ভিয়া। ভিয়ার মেয়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় গৃহ পরিচ্ছন্নতাকর্মী। গত ১২ বছর ধরে মেয়ের আয়েই ভিয়ার পরিবার প্রতিপালিত হচ্ছে। শহরের একটি গির্জায় বসে ভিয়া বলেন, ‘আমি একজন ক্যাথেলিক এবং আমি ঈশ্বরের কাছে তার পরাজয় কামনা করেছি।’ ‘ট্রাম্প বলেছেন, তিনি প্রেসিডেন্ট হলে যেসব অভিবাসীর কাগজপত্র নেই তাদের সবাইকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের করে দেবেন। অথচ আমাদের প্রয়োজন মেটাতে তাদের সেখানে থাকতে পারা সত্যিই খুব জরুরি।’

গির্জাটির দেওয়ালে খচিত একটি ফলকে অভিবাসীদের ধন্যবাদ জানানো হয়েছে। স্থানীয়দের বাড়ি নির্মাণ ও ব্যবসা শুরু করতে সাহায্য করার জন্য, বিবাহের খরচ দেয়ার জন্য।
নির্বাচনী প্রচারের শুরু থেকেই ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে বসবাস করা মানুষদের বিশেষ করে মেক্সিকানদের বের করে দেয়ার কথা বলে আসছেন। সেই সাথে তিনি মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর নির্মাণের কথাও বলেছেন এবং সেই প্রাচীর নির্মাণে মেক্সিকো সরকার খরচ বহন না করলে বিতাড়ন প্রক্রিয়া দ্রুত করা হবে এবং রেমিট্যান্স পাঠানোও সীমিত করা হবে হুঁশিয়ার করেছেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের এ কৌশল মেক্সিকোর জন্য বিশেষ করে মোকাকসেকের মতো প্রত্যন্ত অঞ্চলের জন্য নিদারুণ পীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষরা জানান, মধ্য-দক্ষিণের প্রদেশ পুয়েবলার শহর মোকাকসেকের ৭০ শতাংশের বেশি মানুষ যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী পরিবারের সদস্যদের আয়ের ওপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল, যাদের অনেকে কোনো কাগজপত্র ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছে। মোকাকসেকের ব্যবসায়ী এস্তেবান মারকুয়েজ বলেন, ‘যখন থেকে আমাদের লোকজন যুক্তরাষ্ট্র যেতে শুরু করেছে, আমাদের শহরের অনেক উন্নতি হয়েছে।’
মেক্সিকোর ৫০ লাখের বেশি মানুষ অবৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে। তাদের মধ্যে অর্ধেক অবৈধভাবে সেখানে প্রবেশ করেছে। এ বছর সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তারা দুই হাজার কোটি মার্কিন ডলার দেশে পাঠিয়েছে।
মেক্সিকোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ওই সময়ে শুধু পুয়েবলা প্রদেশেই ১০০ কোটি মার্কিন ডলার পাঠানো হয়েছে।
মেক্সিকোতে বেকারত্বের হার অনেক বেশি। ফলে মাদক চোরাকারবারিরা সহজেই তরুণদের এ পথে নিয়ে আসতে পারে। মারকুয়েজ বলেন, ‘বাস্তবতা হলো, মেক্সিকোতে তাদের করার কিছুই নেই। যারা এখানে থাকে তাদের বেঁচে থাকতে অর্থের প্রয়োজন এবং যেহেতু এখানে কাজ নেই, তারা সহজেই অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে।’ রয়টার্স

No comments:

Post a Comment

Well done_Thanks for comment